করোনাকালে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ

অথর
সময়ের দিগন্ত ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৭ আগস্ট ২০২০, ১১:৪০ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 25 বার
করোনাকালে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ

জে.এন.এস. ডেক্স: করোনা সংক্রমণের আগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ বিতরণ কমে যায়। তবে সংক্রমণের মধ্যে অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের ৬৩ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ দিয়েছে। ঋণ বাড়লেও বৃদ্ধির হার অনেক কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের মার্চ শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। তিন মাস পর জুনে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে অফশোর ব্যাংকিংয়ের ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে এ ঋণ ছিল ৬০ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, অফশোর ব্যাংকিং চালুর পর গত মার্চে প্রথমবারের মতো ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির পরিবর্তে কমে যায়। অফশোর ব্যাংকিং হলো বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার জন্য গঠিত ব্যাংকের আলাদা ইউনিট। দেশের বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ করে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার জন্য ১৯৮৫ সালে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ৩৬টি ব্যাংক ইউনিট গঠন করে ঋণ বিতরণ করছে।
মিডল্যান্ড ব্যাংক নতুন করে এ ঋণ চালু করেছে। অফশোর ব্যাংকিংয়ের সুদহার অনেক কম। তবে অফশোর ব্যাংকিংয়ে অপব্যবহার করে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এ সস্তা ঋণেও খেলাপি রয়েছে। জুন পর্যন্ত অফশোর ব্যাংকিংয়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে এবি ব্যাংকের ৩২৬ কোটি টাকা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ১০২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য মতে, জুন পর্যন্ত অফশোর ব্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এইচএসবিসি ব্যাংক। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি, দ্য সিটি ৩ হাজার ৫৬ কোটি, ইস্টার্ন ২ হাজার ১০৮ কোটি, ইউসিবি ১ হাজার ৯৩৯ কোটি, ব্র্যাক ১ হাজার ৮৯৮ কোটি, ব্যাংক এশিয়া ১ হাজার ৮৭৬ কোটি, সাউথইস্ট ১ হাজার ৭৫৩ কোটি, প্রাইম ১ হাজার ৭৩০ কোটি, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট দেড় হাজার কোটি ও অগ্রণী ব্যাংক অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে ১ হাজার ৪২০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে বিতরণ করা ঋণের অন্তত ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশে অবস্থিত কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যায়। অফশোর কার্যক্রমের তহবিল আহরণের সুযোগ বৃদ্ধি, বৈদেশিক তহবিলের ব্যবহার নিশ্চিত করা, তহবিল ব্যবস্থাপনা যথাযথ রাখার মাধ্যমে অফশোর ব্যবসার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের আরও সুষ্ঠু বিকাশের জন্য গত ১৮ জুন আইনে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ জমা সংরক্ষণের হার (সিআরআর) সাড়ে ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে একটি ব্যাংকের মূলধনের ২০ শতাংশের পরিবর্তে এখন থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে। এ সংশোধনের ফলে অফশোর ব্যাংকিংয়ে সক্ষমতা বেড়েছে। উল্লেখ্য, গত জুনে স্থানীয় মুদ্রায় বেসরকারি খাতের ঋণ বিতরণ মাত্র ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ হারে বাড়ে। এ প্রবৃদ্ধির হার এক যুগের মধ্যে সর্বনি। অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে খেলাপি ঋণ ৯৬ হাজার ১১৬ কোটি টাকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − 7 =