দুধ-ডিম নিয়ে বিপাকে দৌলতপুরের খামারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১০ জুন ২০২০, ১:৪২ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 132 বার
দুধ-ডিম নিয়ে বিপাকে দৌলতপুরের খামারীরা

বিশেষ প্রতিবেদক : বছরে ১২ হাজার মেট্রিক টন দুধ,৪কোটি পিস ডিম আর ২০ হাজার টন মাংস উৎপাদন করে দেশের অন্যতম বৃহত্তম উপজেলা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের খামারীরা। সরকারি হিসেব অনুযায়ী চলতি করোনা কালেও উৎপাদনের অনুপাত বহাল রয়েছে। তবে বাঁধ সেধেছে অন্যখানে! উৎপাদিত এসব পণ্য বাজারজাত ও বিক্রিতে বিপাকে পড়েছেন খামারীরা।

উপজেলার সদর ইউনিয়ন দৌলতপুরের খামারী হাজী সিরাজুল ইসলাম জানান, বেশি সুদের বেসরকারি ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন দৌলতপুরের অধিকাংশ খামারী। সরকারি ঋণে আমাদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এই অবস্থায় আমাদের করোনা পরিস্থিতিতে উৎপাদিত দুধ-ডিম-মাংস বিক্রি কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০ থেকে ৩০ টাকা লিটারে অঘোষিত লকডাউনের মধ্যে দুধ বিক্রি করতে হয়েছে। সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আমরা নি:স্ব হয়ে যাবো। সরকার নিবন্ধিত খামারীদের দিকে বিশেষ নজর দিতে সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ।

বর্তমান বাজারে মূলত বাণিজ্যিক ব্যবহার মানে দৈ মিষ্টি উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে দুধ। আর ডিম বিক্রি হচ্ছে কেবলমাত্র পারিবারিক খাদ্যাভ্যাসে। এর আগে ডিম দিয়ে নানা পণ্য উৎপাদনে বেকারী এবং খাবারের হোটেলে অনেক ডিম যেত বলে জানান খামারীরা। আর অর্থনৈতিক সঙ্কট ও করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ মাংস কিনে কমই খাচ্ছেন বলেও মন্তব্য তাদের।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এ্যাসোসিয়েশন দৌলতপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান মাসুম বলেন– সরকার খামারী ও চাষীদের উৎপাদিত দুধ-ডিম-মাছ-মাংস বিক্রির জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে তা দৌলতপুরে প্রতিফলিত হয়নি। নাম মাত্র দামে খামারীরা তাদের পণ্য বিক্রি করছেন। অঘোষিত লকডাউন বা লকডাউন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দিশেহারা খামারীরা পথে বসে যাবে বলে জানিয়ে মাসুম বলেন,উৎপাদিত পণ্য বিক্রিতে সহায়তার পাশাপাশি গবাদিপশু বা হাস-মুরগীর খাবারের চড়া দাম যদি কমানো যায়, ঋণের বিষয়ে শর্ত যদি কমিয়ে আনা যায় তাহলে দৌলুতপুরের খামারীদের টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। নতুন উদ্যোক্তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।

করোনা সংকটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ বিক্রি প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:মো: আব্দুল মালেক জানান ভিন্ন কথা,তিনি বলেন– আমরা খামারীদের সাথে কথা বলে জেনেছি তারা সঠিক দামে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। আগামীতে প্রয়োজন হলে অবশ্যই আমরা খমারীদের পাশে থাকবো।

এদিকে বিপাকের অনেকটাই মিল মাছ চাষীদের। মাছ চাষে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের যোগান দেওয়া ও বিক্রি উপযুক্ত মাছ বাজারজাত করা নিয়ে জটিলতায় তারা।

গত ২২ এপ্রিল দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের চাষি, খামারি এবং উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মাছ, দুধ, ডিম ও পোল্ট্রি সুষম সরবরাহ ও বাজারজাত করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সব জেলা ও উপজেলায় কর্মরত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সংবাদটি শেয়ার করে দৈনিক সময়ের দিগন্তের সাথে থাকুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − nine =


আরও পড়ুন