দুর্নাম ঘুচিয়ে খেলায় ফিরতে মরিয়া ক্লাবগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৬ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 47 বার
দুর্নাম ঘুচিয়ে খেলায় ফিরতে মরিয়া ক্লাবগুলো

সময়েরদিগন্ত.কম ॥ এ মাসের ১ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে প্রিমিয়ার লীগের দলবদল। শেষ হবে নভেম্বরের ২০ তারিখ। দলবদল শুরুর ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তাতে অংশ নিতে পারেনি ৩৮ বছরের পুরনো ক্লাব মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলবদলে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ক্লাব সংশ্লিষ্টরা। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের প্রশাসক জহুরুল ইসলাম রোহেল বলেন, ‘দলবদলের জন্য টাকা সংগ্রহের আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আশা করি সময় মতো দলবদলে অংশ নিতে পারবো। আমাদের ক্লাবের জায়গাটা ভাড়া দেওয়া ছিল। ভাড়ার টাকা তারা ব্যাংকে জমা দিতো। সেই টাকায় আমাদের ক্লাবের খরচ চলতো। এখন আমরা অন্যভাবে টাকার ব্যবস্থা করে ক্লাব কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’ শুধু মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র নয়, অন্য ক্লাবগুলোও ক্যাসিনোকাণ্ডের কারণে যে দুর্নাম হয়েছে, তা ঘুচিয়ে খেলায় ফিরতে চায়। কয়েকটি ক্লাব ইতোমধ্যে দলবদল ও খেলায় অংশ নিয়েছে। বাকিরাও খেলায় ফিরতে চায়। তবে অভিযানে ক্লাব-সংশ্লিষ্ট যারা গ্রেফতার বা পলাতক রয়েছেন, তাদের অনুপস্থিতির কারণে ক্লাবগুলোতে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। খেলায় ফিরতে এলাকাভিত্তিক ক্রীড়ামোদি ও পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তায় এই সংকট মোকাবিলা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ক্লাবের ভেতরে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে ২০ সেপ্টেম্বর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাব-২। গ্রেফতার করা হয় ক্লাবটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম ফিরোজকে। এ সময় অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ইয়াবা, পাঁচ শতাধিক প্লেয়িং কার্ড ও জুয়ার কয়েন জব্দ করা হয়। ক্লাবটিতে ক্যাসিনো চলার কোনও প্রমাণ না মিললেও একসময় ক্যাসিনো চলতো বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তারা। অভিযানের পর থেকে ক্লাবটির অফিস বন্ধ ছিল। কর্মকর্তাসহ খেলোয়াড়রা বা সংশ্লিষ্ট কেউ ক্লাব এলাকায় আসেননি। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর ওই এলাকার সংসদ সদস্যের আশ্বাস পেয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ক্লাবে আসেন কর্মকর্তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের খেলাধুলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রয়োজন ছিল বলে জানিয়েছেন ক্লাব সংশ্লিষ্টরা। কেননা, ১ ও ২ অক্টোবর ছিল প্রথম বিভাগের দলবদল এবং ৪ ও ৫ অক্টোবর ছিল দ্বিতীয় বিভাগের দলবদল। ক্লাব সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলবদলে অংশ নিতে ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন ছিল কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের। কিন্তু, ক্লাবের সভাপতি জেলে থাকায় ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়া যাচ্ছিল না। আর্থিক সাহায্য চেয়ে বিসিবিকে চিঠি দিয়েও তা পাওয়া যায়নি। পরে কলাবাগান এলাকায় স্থানীয় ক্রীড়ামোদি, সাবেক সংগঠকসহ বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় একদিনের মধ্যে ২০ লাখ টাকা জোগাড় করে পরদিন ১ অক্টোবর দলবদলে অংশ নেয় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। ২৬ অক্টোবর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের অফিসে ঘুরে দেখা যায়, ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)-এর সাবেক সদস্য সচিব ইকবাল ইউসুফ চৌধুরী অফিস করছেন। মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এছাড়া অফিসের অন্যান্য কাজ তদারকি করতে দেখা গেছে তাকে। ইকবাল ইউসুফ চৌধুরী বলেন, ‘একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর কিছু দিন একটা স্থবির অবস্থা ছিল। যে কারণে ক্লাবে কেউ আসেননি। এখন ক্লাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সভাপতি না থাকায় সিনিয়র সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূইয়া ক্লাবের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ক্লাবের অন্য সদস্যরাও সম্পৃক্ত আছেন।’ ইকবাল ইউসুফ চৌধুরী বলেন, ‘সব শঙ্কা কাটিয়ে খেলায় আমাদের টিম নামাতে পেরেছি। প্রথম বিভাগে টি-২০ টুর্নামেন্ট শেষ করেছি। অন্যান্য খেলার ও অফিসের খরচ সবাই মিলে বহন করছেন। অভিযানের পর ক্লাবের পুরাতন অনেকে আসছেন না। আবার সাবেকরা অনেকে আমাদের খোঁজ নিচ্ছেন। ক্লাবের অন্য যারা আছেন, তারাও আসছেন।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের একাধিক সংগঠক জানান, ক্লাবে একসময় ক্যাসিনো ছিল। ক্লাবের দুটি রুম ভাড়া দিয়ে ক্যাসিনো চালানো হতো। অনেক দিন ধরে সেটা বন্ধ রয়েছে। তবে আবার চালু করার চাপ ছিল। ক্লাব সংশ্লিষ্ট অন্য একজন জানান, ক্লাবে আমাদের কার্ডরুম ছিল। সেটার আয় থেকে দৈনন্দিন খরচ চলতো। কার্ড রুমটি বন্ধ থাকায় এখন এই খরচও সবাই মিলে চালাতে হচ্ছে। এদিকে, ক্লাব ভবনের ফটক সিলগালা থাকলেও ফকিরাপুলের ইয়ংম্যান্স ক্লাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ ফুটবলের খেলা শেষ করেছে। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে অংশ নিয়েছে। তাদের খেলা চলছে। এছাড়া, মতিঝিল ও আরামবাগ এলাকার দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব ও আরামবাগ ক্রীড়াসংঘের ভবনও সিলগালা রয়েছে। খেলাধুলা সংক্রান্ত কোনও কার্যক্রমও চলছে না তাদের। উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে শুরু হয় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। অভিযানে র‌্যাব এখন পর্যন্ত সাত জন গডফাদারসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাসিনোতে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২০১ জনকে আর্থিক জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে ১১টি ক্যাসিনো ও ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরমধ্যে ঢাকায় ৮টি এবং চট্টগ্রামে তিনটি। এসব ক্যাসিনো ও ক্লাব থেকে প্রায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ক্যাসিনোসামগ্রী জব্দ করা হয়। অভিযান চালানো ক্লাবগুলো হলো- ফকিরাপুল ইয়ংম্যান্স ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা চিত্তবিনোদন ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র, গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ, কলাবাগান ক্রীড়াচক্র, ধানমন্ডি ক্লাব, ফু-ওয়াং ক্লাব, চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, আবাহনী ক্লাব ও মোহামেডাম ক্লাব। ঢাকার ইয়ংম্যান্স এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের জুয়ার আসর ও বারে অভিযান চলাকালে ২০১ জনকে আর্থিক জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে মাদক মামলায় কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে ১৯ জনকে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে দেড় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৬১ জনকে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ২১ জনকে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে সাত দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সংবাদটি শেয়ার করে দৈনিক সময়ের দিগন্তের সাথে থাকুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 9 =