দেশে ইন্টারনেট গেম খেলার শীর্ষে পাবজি, ফোর্টনাইট, ফ্রি-ফায়ার, ভ্যালোরেন্ট

অথর
সময়ের দিগন্ত ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 135 বার
দেশে ইন্টারনেট গেম খেলার শীর্ষে পাবজি, ফোর্টনাইট, ফ্রি-ফায়ার, ভ্যালোরেন্ট

দেশে করোনাভাইরাসের এই সময়ে কম্পিউটার ও মোবাইল গেম খেলা আগের চেয়ে আরও জনপ্রিয় হয়েছে, তেমনি খেলার হারও বেড়েছে। তবে খেলার শীর্ষে রয়েছে বিদেশি গেমস। দেশে এই মুহূর্তে গেমারদের কাছে শীর্ষ গেমের তালিকায় রয়েছে পাবজি, ফোর্টনাইট, ফ্রি-ফায়ার, ভ্যালোরেন্ট ইত্যাদি গেমস। বিদেশি গেমের বাজার, গেমসের প্রতি গেমারদের আগ্রহ আকর্ষণ তীব্র হলেও দেশীয় গেমের প্রতি তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি গেমারদের। দেশীয় গেম নির্মাতারা এ সময়ের গেমের বাজারকে গতানুগতিক বলেছেন। দেশীয় গেমের স্বল্পতা, প্রচার প্রচারণা না থাকা, নিয়মিত আপগ্রেড না হওয়া, বৈচিত্র্য না থাকায় গেমের প্রতি গেমারদের আগ্রহ কম। অন্যদিকে বৈশ্বিক গেমের বাজার বলছে, এ বছরের গেমের বাজার আকার অন্যান্য সব সময়কে ছাপিয়ে যাবে।

দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে জানা গেছে, দেশে এই মুহূর্তে গেমসে ব্যয় হচ্ছে সাড়ে ৫০০ জিবিপিএস’র বেশি (আপ ও ডাউন স্ট্রিম মিলিয়ে) ব্যান্ডউইথ। করোনাকালের আগে যার পরিমাণ অনেক কম ছিল। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আম্বার আইটি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আমিনুল হাকিম জানান, তার প্রতিষ্ঠানে গেমের জন্য ৫ জিবিপিএস (আপস্ট্রিম)ও ৩ জিবিপিএস (ডাউনস্ট্রিম) ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয়। তিনি মনে করেন, পাড়া ও মহল্লায় বা স্থানীয় পর্যায়ে যেসব আইএসপি ইন্টারনেট সেবা দেয় তাদের ক্ষেত্রে গেমের পেছনে ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের শতাংশ বা হার আরও বেশি। আইএসপিগুলোর সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে খুব খেলা হচ্ছে পাবজি, ফোর্টনাইট, ফ্রি-ফায়ার, ভ্যালোরেন্ট, লিগ অব লেজেন্ড, ফিফা-২০২০, কাউন্টার স্ট্রাইক ইত্যাদি গেমস। এরমধ্যে ভ্যালোরেন্ট গেমটি গত ৩-৪ মাস আগে এসেছে। এসেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে এসেছে। ফ্রি-ফায়ার বেশ আগে এলেও সম্প্রতি গেমটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে জানালেন একটি শীর্ষস্থানীয় আইএসপির একজন কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে গেম গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাসিভ স্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, স্থানীয়ভাবে তৈরি গেমস তরুণরা ব্যাপকভাবে খেলছে না, এমনকি ব্যাপকভাবে প্লে-স্টোরগুলোতেও যাচ্ছে না। যেটা হচ্ছে বিদেশি গেম বেশি খেলা হচ্ছে। তিনি জানান, করোনার এই সময়ে দেশি গেম আগের চেয়ে বেশি খেলা হচ্ছে। তার প্রতিষ্ঠানের তৈরি যুদ্ধ ৭১ (৬টি পার্ট, প্রতিটি পার্টই পূর্ণ গেম) বেশি খেলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের তৈরি হাতিরঝিল গেমটি অনেকদিন প্লে-স্টোরে ছিল। তিনি বলেন, গেমস নিয়মিত আপগ্রেড করতে হয়, নতুন ভার্সন আনতে হয়। এ জন্য বড় বিনিয়োগ লাগে। আমাদের যে গেমের বাজার তাতে করে শুধু গেমস দিয়ে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। ফলে গেমস কোম্পানিগুলো দাঁড়াতে পারছে না। দেশীয় গেমের মধ্যে রাইজ আপস ল্যাবসের তৈরি ট্যাপ ট্যাপ অ্যান্টস, এমসিসি লিমিটেডের তৈরি মিনা গেম সবসময়ই ভালো খেলা (প্লেস্টোর থেকে বেশিবার ডাউনলোড করে) হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে শীর্ষ গেমিং ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গিগাবাইটের বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মো. আনাস খান জানান, এই করোনাকালে তারা গেমারদের উৎসাহ দিতে গেমারস মিট করেছেন,অনলাইনে ৬টি টুর্নামেন্টেরও আয়োজন করেছেন। তিনি আরও জানান, করোনার সময়ে গেমারদের গেমিং সময় বেড়েছে। দেশের গেমিং কমিউনিটি বেশ বড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিন দিন এর আকার বড় হচ্ছে। গেমাররা বিদেশে বড় বড় টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছে। একজন গেমার কানাডায় একটি টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন কিন্তু উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকের অভাবে যেতে পারছেন না। শুধু ‍গিগাবাইটই নয় আরও অনেক ব্র্যান্ড আছে গেমিং প্রোডাক্টের জন্য। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ গেমারদের আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। তিনি মনে করেন, গেমারদের পৃষ্ঠপোষকতা দিলে তারাও বিদেশে বিভিন্ন গেমিং টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারবে। তিনি জানান, বরাবরই গেমারদের কাছে গিগাবাইটের মাদারবোর্ড, গ্রাফিকস কার্ড, গেমিং চেয়ার, গেমিং মনিটর, মাউস পছন্দের শীর্ষে। করোনাকালেও এসবের বিক্রি কমেনি। বরং চাহিদা ছিল অন্য সময়ের তুলনায় বেশি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + 16 =