দৌলতপুরের সেই চেয়ারম্যান লাইভে এসে আবারো মিথ্যাচার : ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে সাক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৪ এপ্রিল ২০২০, ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 3132 বার
দৌলতপুরের সেই চেয়ারম্যান লাইভে এসে আবারো মিথ্যাচার : ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে সাক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ত্রাণ বিতরণ হয় গত শুক্রবার। ত্রাণ বিতরণের সময় সকল ইউপি সদস্য নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস । ত্রাণ বিতরণের সময় মহিউদ্দিন বিশ্বাস ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভে এসে তার ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষকে খাদ্য দ্রব্য সামগ্রী বিতরণ করেন, এ সময় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন অনেক হতদরিদ্র মানুষকে। এমনকি অনেক বৃদ্ধকে মারার জন্য উদ্যত হন ধাক্কাধাক্কি ও করেন । বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে তোলপাড় সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মানুষ দাবি করেন, চেয়ারম্যান শুধু মানুষকে লাঞ্ছিত করেই ক্ষান্ত হননি, ত্রাণ বিতরণে আত্মীয় করন করেছে। এই ইউনিয়নের অনেক হতদরিদ্র মানুষেই ত্রাণ পাই নাই। আমরা বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে সঠিক বিচার দাবি করছি।

নাম পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে এক ইউপি সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি সম্পুর্ন সত্য আমি তখন উপস্থিত ছিলাম আমার তখন খুব খারাপ লেগেছে। এই হতদরিদ্র মানুষগুলোকে ছবি তোলার জন্য মারধর করা ঠিক হয় নাই । ইউপি সদস্য আরো জানান, ভুক্তভোগীরা পরে যে চেয়ারম্যানের পক্ষে কথা বলছে তার কারণ চেয়ারম্যানের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছে, তাই অসহায় লোকজন পরে আবার চেয়ারম্যানের পক্ষ হয়ে মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ আছে যেগুলো প্রমাণ সাপেক্ষে আপনি আমার সঙ্গে দেখা করলে আপনাকে বুঝিয়ে দিব আপনি চাইলে ডকুমেন্টস অথবা কাগজপত্রসহ দিব ।

এই ভিডিও সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল হলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয় দৌলতপুর উপজেলায়, এ বিষয়ে মহিউদ্দিন বিশ্বাস এর কাছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওর কথা জানতে চাইলে তিনি সাথে সাথে নিজে কাকুতি-মিনতি শুরু করে এবং , তিনি ভুল হয়েছে বলে ক্ষমা চান এবং তিনি আরও বলেন আমি যেটা করেছি আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাইবো । আগের লাইভে আসা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা জানান, সেদিন লাইভটা দিয়ে আমরা ভুল করেছি তাই সাথে সাথে লাইফটা সাইট থেকে ডিলিট করেছি পরে আবার লাইভে এসে চাচাকে দিয়ে ক্ষমা চাইয়ে নেব। তিনি গণমাধ্যমের সামনে এই কথা বলার এক ঘন্টা পরেই।আবার লাইভে এসে বিভিন্নভাবে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এমনকি ভুক্তভোগীদের চাপ প্রয়োগ করে তার পক্ষে লাইভে এসে বলতে বাধ্য করেন ।

এ বিষয়ে লাইভে এসে চেয়ারম্যানের পক্ষে বলার এক নেতার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুঝেনই তো দলের মানুষ তাকে সেভ করার জন্য আমাদের মিথ্যা কথা বলতে হয়েছে। তবে চেয়ারম্যান এর ব্যবহার কখনো ভালো ছিল না, তবে কিছু করার নেই বাঁচিয়ে নেওয়ার জন্য মিথ্যা বলতে হল, (আপনি যে মিথ্যা বললেন আপনার তাহলে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারালো না)? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আবারও বললেন এজন্যই তো ভুক্তভোগী যারা তাদেরকে দিয়ে আগে পক্ষে বলে নেয়া হলো বুঝলেন না পরের লাইভ দেখলে বুঝতে পারবেন চেয়ারম্যানের কক্ষে নিয়ে আগে বুঝিয়ে বলার পরে বের করা হলো এবং তার পক্ষে বলতে বাধ্য করা হয়েছে ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, বিষয়টি আমিও মাত্র অবগত হলাম এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করে দৈনিক সময়ের দিগন্তের সাথে থাকুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − four =


আরও পড়ুন