পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুললো ভারত : কুষ্টিয়ায় উদ্বিগ্ন পেঁয়াজ চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 162 বার
পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুললো ভারত : কুষ্টিয়ায় উদ্বিগ্ন পেঁয়াজ চাষিরা

সময়েরদিগন্ত.কম ॥ পেঁয়াজ রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত। প্রায় ছয় মাস পর এই নিষেধাজ্ঞা তুললো দেশটি। তবে এই খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কুষ্টিয়ার পেঁয়াজ চাষিরা। ভালো দাম পাওয়ার আশায় অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে এবার বেশি পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন তারা। অনেকের পেঁযাজ এখনও মাঠে রয়েছে, আবার অনেকের পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে। তাদের আশঙ্কা, ভারত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে এখন ব্যাপক পরিমাণ পেঁয়াজ দেশের বাজারে প্রবেশ করবে। ফলে তারা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যয্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন। লোকসানের মুখোমুখি হবেন তারা।

এ কারণে অন্তত আরও ২/৩ মাস পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দেওয়ার দাবি তাদের। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক পেঁয়াজ চাষীর সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। কুষ্টিয়ার পেঁয়াজ চাষী মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, ‘শুনলাম ভারত নাকি পেঁয়াজ রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এর ফলে এখন হুরমুর করে দেশের বাজার ভারতীয় পেঁয়াজে ভরে যাবে। আর আমরা লোকসানের কবলে পড়বো। অতীতে এই মৌসুমে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে পেয়েছি ১৫ থেকে ১৭ টাকা। এবছর ভালো দামই পাচ্ছিলাম। প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ মাঠেই বিক্রি করেছি ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কিন্তু হঠাৎ করে বাইরের পেঁয়াজ আসতে শুরু করলে তো দাম আগের দরে চলে যাবে। তখন তো আমরা লোকসানের মুখে পড়বো।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে এবছর অতীতের বছরগুলোর তুলনায় বেশি দামে পেঁয়াজের বীজ কিনতে হয়েছে। একইভাবে এবছর ক্ষেতে কাজ করার শ্রমিককেও বেশি দাম দিতে হয়েছে। তার পরও উৎপাদিত পেঁয়াজের যে দাম পাচ্ছিলাম, তাতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালোই দাম হাতে এসেছে। কিন্তু ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির কারণে সেই দাম যদি পড়ে যায় তাহলে তো আমরা মাঠে মারা যাবো। ভালো দামের আশায় ঋণ নিয়ে অতিরিক্ত জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি।

প্রায় একই কথা বলেছেন কুষ্টিয়ার আরেক পেঁয়াজ চাষী কেরামত আলী। তিনি জানিয়েছেন, ‘ভালো দামের আশায় বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। এতে খরচও আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি হয়েছে। এখন যদি আবার সেই আগের মতো ১৫ টাকা ১৭ টাকা কেজি দরে উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয় তাহলে তো মরে যাবো। অন্তত আরও ২/৩ মাস সরকার যাতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দেয় সে দিকটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।’ এদিকে শহরের পৌর বাজারের আমদানিকারক বলেন, ‘ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবো। কারণ ভারতের বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার, মিসর, তুরস্ক, পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ এখনও রয়েছে আমাদের গুদামে। ভারতীয় পেঁয়াজ আসা শুরু করলে এগুলো কে কিনবে? এ অবস্থায় আমাদের দিকটি সরকারের বিবেচনা করা উচিত।’

এদিকে পৌর বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে ভারতীয় পেঁয়াজ আসতে শুরু করলে দাম কমে যাবে। তবে সেটি যদি অতি মাত্রায় কমে যায় তাহলে উৎপাদনকারী কৃষক, আমদানিকারক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এদিকে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ইতোমধ্যে নতুন জাতের পেঁয়াজ উঠেছে। ফলে সেখানকার বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। এমনকি পেঁয়াজ রফতানি না হওয়ায় ভারতের অনেক প্রদেশে কৃষকরা ন্যায্য দাম না পেয়ে আন্দোলন করেছেন। পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজের রফতানি মূল্য দ্বিগুণ করে প্রতি টন ৮৫০ ডলার করায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে পেঁয়াজের দাম ২৬০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করে দৈনিক সময়ের দিগন্তের সাথে থাকুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =


আরও পড়ুন