“ভাষার রক্ষণশীলতাঃ ভাষা সমৃদ্ধিকরণে মুল বাঁধা!”

অথর
সময়ের দিগন্ত ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১২ এপ্রিল ২০২১, ৩:১২ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 287 বার
“ভাষার রক্ষণশীলতাঃ ভাষা সমৃদ্ধিকরণে মুল বাঁধা!”

“ভাষার রক্ষণশীলতাঃ ভাষা সমৃদ্ধিকরণে মুল বাঁধা!”
রচনা : বৃত্তায়ন (ছদ্মনাম)

প্রতিটি ভাষা তার নিজস্ব ধ্বনিব্যাঞ্জনাকে ঠিক রেখে অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বৈশিষ্ট্যের বিচারে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতি মুহূর্তে বিবর্তিত হচ্ছে। পৃথিবীতে প্রতিটি সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা অনুযায়ী মৌখিক ও লেখ্য রূপ প্রয়োগ করে থাকে। সময়ের স্বরূপ বিকশিত করার জন্য ‘যাবুলী মিশাল’ ভাষা প্রয়োগ করে থাকে মানুষ বলার কিংবা লেখনির ক্ষেত্রে। সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে প্রনিধানযোগ্য অগ্রগামী লেখক, মধ্যযুগের অন্যতম লেখক ভারত চন্দ্র রায়গুণাকর; তিনি বাংলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম ‘যাবুলী মিশাল’ ভাষার প্রয়োগ দেখিয়েছেন। বাংলা ভাষার সংস্কৃতি পরিশুদ্ধিকরণ রূপ প্রচলন, পদ্ধতিগতভাবে শুরু হয়েছিল কলকাতার ‘ফোর্ট উইলিয়াম’ প্রতিষ্ঠার পর থেকে।বঙ্কিমচন্দ্র, বাঙালি মুসলমান গদ্য লেখক মীর মোশাররফ হোসেনের লেখা সমন্ধে মন্তব্য করেছিলেন এমন যে, এই লোকের লেখায় পেঁয়াজ ও রসুনের গন্ধ কম পাওয়া যায়-অর্থ হচ্ছে তিনি আরবি, ফার্সি শব্দের ব্যবহার কম করেছেন। তিনি মুসলমান সমাজের নিজস্ব গন্ডিকে পারিপার্শ্বিক সমাজের সাথে মিল রেখে ‌আধুনিকতাবাদ সমাজ নিয়ে লেখে গিয়েছেন। যেমন-‘শহীদে কাসিদা’ রচনার ক্ষেত্রে মুসলিম পুঁথি সাহিত্য থেকে মূলগত নয়, উৎস হিসেবে নিয়েছেন মাত্র। এদিকে কবি ও সংগীতশিল্পী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে বেশি আরবি, ফার্সি, উর্দু ভাষার প্রয়োগ করেন।আমি মনে করি তিনিই সর্বপ্রথম বাঙালি সমাজ ও মুসলমান সংস্কৃতির মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যাবধান কমিয়ে এনেছেন। অর্থাৎ প্রয়োজনের তাগিদে নয় বরং অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভাবগত শব্দ চলে আসে-এটা ভাষার রক্ষনশীলতা নয় বরং ভাষার সমৃদ্ধি আনায়নে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বটে। তাই আমরা ভাষার রক্ষণশীলতা দিয়ে কোন সমাজের সাহিত্য চর্চাকে থামিয়ে না দিয়ে বরং উৎসাহ দেওয়া অধিকতর যৌক্তিক।

পরিচয়ঃ প্রভাষক,সরকারি আব্দুলপুর কলেজ,লালপুর,নাটোর।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × two =