মিরপুর হালসায় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ ॥ ঢামাচাপা দিতে প্রভাবশালীদের দৌড়ঝাঁপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৫ জুলাই ২০২০, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 152 বার
মিরপুর হালসায় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ ॥ ঢামাচাপা দিতে প্রভাবশালীদের দৌড়ঝাঁপ

কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের হালসা বাজারের রেজা ইলেকট্রনিক্সের স্বত্ত্বাধীকারী ও হালসা গ্রামের বাসিন্দা মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম রেজার বিরুদ্ধে দোকানের ভিতর মহিলা ক্রেতাকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সবার মুখে মুখে হলেও রেজা গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালীদের ম্যানেজ ও মধ্যস্থতা করে ভুক্তভোগীদের মুখ না খুলতে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে বহাল তবিয়তে তার ব্যাবসা পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে ।
একাধিক সূত্র জানায়, গত ১২ তারিখ রবিবার দুপুরের দিকে কেনাকাটা করার জন্য একজন মহিলা ক্রেতা রেজা ইলেকট্রনিক্সে গেলে দোকান মালিক রেজাউল ইসলাম রেজা পণ্য দেখানোর নাম করে তার মার্কেটের ভিতরের নির্জন বেড রুমে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ওই মহিলা ক্রেতাকে কুপ্রস্তাব দেয়৷ রেজার কুপ্রস্তাবে ওই মহিলা ক্রেতা রাজি না হলে রেজা জোর পূর্বক তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। মহিলাটি নিজেকে রক্ষা করতে চিৎকার করে কৌশলে দরজা খুলে দৌঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং পাশের কসমেটিকসের ব্যবসায়ীকে বিষয়টি অবগত করেন৷মূহুর্তেই খবরটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে ৷ খবর পেয়ে দ্রুত আমবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন ও হালসা ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই মানব ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে চাইনা। এ বিষয়ে হালসা ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই মানব বলেন, প্রথমে ওই মহিলা ঘটনার বিষয় স্বীকার করে না। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললে আত্মীয় স্বজনদের মুখে এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। আমার কাছে লিখিত সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ দেয়নি। এব্যাপারে কথা বলার জন্য মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। আমবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও হালসা বাজার কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান মিলন বলেন- এক মাস আগে থেকে রেজার বিরুদ্ধে তার মার্কেটে এই অপকর্মের খবর বাজারের ব্যবসায়ীরা আমাকে জানায়। তার বিল্ডিংয়ে ৪টি লোহার গ্রীলের গেট রয়েছে। এরপর রয়েছে বেড রুম। আমি মনে করি পরিকল্পিতভাবে রেজা এই মহিলাকে তার ঘরে নিয়ে যায়। জোরপূর্বক শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আমি ও হালসা ক্যাম্পের আইসি এএসআই মানব ওই মহিলার সাথে কথা বললে সে শ্লীলতাহানীর কথা স্বীকার করে এবং রেজার শাস্তির দাবী করেন। এ দিকে ওই মহিলার স্বামী আমবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অফিসে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের নিকট এই ঘটনার বিচার দেয় বলে জানা যায় । এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুলের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে, তিনি রেজার শ্লীলতাহানীর কথা স্বীকার করে বলেন, তার স্বামী আমাদের নিকট বিচার দিয়েছিল। কিন্তু রেজার প্রভাবশালী কিছু নেতার কারণে এই বিচার আমরা করতে পারেনি। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মহিলার ভাসুর ও স্বামীর সাথে কথা বললে তারা জানায়, রেজা একজন প্রভাবশালী লোক। আমরা গরীব মানুষ। আমাদের বিচার হয় না। তাই আমরা চুপ করে আছি। ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, মোবাইল ফোনে মাফ চেয়েছেন। উক্ত ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি ধামচাপা পড়ে যাওয়ায় হালসা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীসহ আশ-পাশ গ্রামের সকল সচেতনমহলে ক্ষোভের আভাস পাওয়া যায় ৷ অনেককেই বলতে শোনা যায় অর্থের কাছে গরীবের বিচার নিভৃত্বে কাঁদে আর অপরাধীরা এভাবেই জিতে যায় ৷

সংবাদটি শেয়ার করে দৈনিক সময়ের দিগন্তের সাথে থাকুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × two =