শহীদ শেখ কামালের নাম ভুলুন্ঠিত করেছেন তরফদার রুহুল আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৯ জুলাই ২০২০, ১:০৯ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 56 বার
শহীদ শেখ কামালের নাম ভুলুন্ঠিত করেছেন তরফদার রুহুল আমিন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ কামালের নামে চট্টগ্রামে ক্লাব কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা হয়েছে। গত অক্টোবরে মাঠে গড়ানো তৃতীয় এই প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মালয়েশিয়ার ক্লাব তেরেঙ্গানু এফসি। প্রতিযোগিতায় জিতে তখন যতটা না উৎসব করেছে তারা, পরবর্তী সময়ে ঠিক ততটাই হতাশ হয়েছে। দীর্ঘ আট মাস হতে চললো, এখনও তারা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রাইজমানির ৫০ হাজার ডলার হাতে পায়নি। বিষয়টি নিয়ে তারা বেশ ক্ষুব্ধ। ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে এখন ফিফা-এএফসির কাছে নালিশ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতিযোগিতার আয়োজক মূলত চট্টগ্রাম আবাহনী। শুরু থেকে ক্লাবটির পরিচালক ও শেখ কামাল ক্লাব কাপের প্রধান সমন্বয়ক এবং সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন। আট মাস ধরে প্রাইজমানি ঝুলিয়ে রাখায় দেশে কিংবা দেশের বাইরে ফুটবলাঙ্গনে শহীদ শেখ কামালের নাম এক কথায় ভুলুন্ঠিত হয়েছে। এই দায় কোনোমতেই রুহুল আমিন এড়াতে পারেন না। এই বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য রুহুল আমিনের সঙ্গে বার বার মোবাইলে ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি, তিনি ফোন ধরেননি। তাকে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠান সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের জেনারেল ম্যানেজার আহমেদ সাঈদ আল ফাত্তাহকে ফোনে জানানো হলেও কোনও উত্তর আসেনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এর আগেও আমরা শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের আয়োজন করেছি। বরাবর চ্যাম্পিয়ন দলকে প্রাইজমানি বুঝিয়ে দিয়েছি সঙ্গে সঙ্গে। এবার বিভিন্ন স্পনসরের অর্থ এখনও পুরোপুরি পাইনি। তারপরও আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করি এ সপ্তাহের মধ্যে স্পনসরদের অর্থ দেওয়া হবে।’ কিন্তু তার সেই প্রতিশ্রুতি ছিল মিথ্যে। আসলে এই মাসের শুরুর দিকে বাফুফের মাধ্যমে প্রাইজমানি দেওয়ার কাজটি করেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। যা এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন আছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেছেন, ‘গত ২ জুলাই তারা আবেদন করেছে আমাদের মাধ্যমে। ৫০ হাজার ডলার সমমানের টাকাও তারা আমাদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছে। আমরা কাজও শুরু করেছি। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তা করতে কিছুটা সময় লাগছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার ফুটবল ফেডারেশনকে আমরা বিষয়টি অবহিত করছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য দ্রুতলয়ে কাজ করতে চায়। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মুখপাত্র মো.সিরাজুল ইসলাম বলেছেন,‘বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এমন কোনও কাজ বাংলাদেশ ব্যাংক করে না। বিদেশি কোনও দলের বা খেলোয়াড়ের প্রাইজমানি পাঠাতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকে যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করা হলে সেই অনুমোদন যাতে দ্রুততার সঙ্গে করা হয় সেটি ব্যাংক গুরুত্ব সহকারে দেখে।’

তেরেঙ্গানু এফসি প্রাইজমানি না পেয়ে বেশ হতাশ। দলটির ম্যানেজার বলেছেন,‘আমরা এখনও প্রাইজমানি পাইনি। তারা আগের মতো শুধু আশাই দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অফিসের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হচ্ছে। শুধু নতুন করে আশাই দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ক্লাব সভাপতি হয়তো ফিফা ও এএফসিতে বিষয়টি জানাবেন। অপেক্ষায় আছি ক্লাবের আইনজীবী কী বলে।’ এ বিষয়ে কথা বলতে বিরক্ত তেরেঙ্গানুর কর্মকর্তা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতাটিতে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন,‘আমরা এই বিষয়ে কথা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আসলে এমন অভিজ্ঞতা আমাদের কখনওই হয়নি। ভবিষ্যতে আমরা এই প্রতিযোগিতায় আর খেলবো না। আমাদের খেলোয়াড়ও সেখানে যেতে চায় না। আমাদের খেলোয়াড়েরাও বেশ হতাশ হয়ে পড়েছে। আমি জানি না অন্য কোনও প্রতিযোগিতায় এমনটি হয় কি না। একটি প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর প্রাইজমানি পেতে প্রায় এক বছর লাগে!’

আবাহনীতে খেলে যাওয়া দলটির অধিনায়ক লি টাক ক্ষুব্ধ। আগেই বলেছেন, ‘আমরা সবাই অপেক্ষায় আছি যে প্রাইজমানি পাবো। কিন্তু এখনও তা পেলাম না। এটা তো পেশাদারিত্বের মধ্যে পড়ে না। আমাদের আমন্ত্রণ দিয়ে নিয়ে গেলো। আমরা আসলে হতাশ হয়েছি।’

সংবাদটি শেয়ার করে দৈনিক সময়ের দিগন্তের সাথে থাকুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 2 =