শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ : ইবিতে অপরাধ প্রমাণিত তবুও শাস্তি মাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১ নভেম্বর ২০১৯, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 74 বার
শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ : ইবিতে অপরাধ প্রমাণিত তবুও শাস্তি মাফ

সময়েরদিগন্ত.কম ॥ শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ লেনদেনে জড়িত চার শিক্ষকের শাস্তি মাফ করে দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এর মাধ্যমে দুর্নীতির বিষয়ে যে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছিলেন উপাচার্য, তা থেকে উল্টো যাত্রা হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের একাধিক অডিও ফাঁস হয়। এতে একজন প্রার্থীর সঙ্গে সহযোগী অধ্যাপক ড. রুহুল আমীন ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম আব্দুর রহিমের কথোপকথন শোনা যায়। এ ঘটনায় রুহুল আমীন ও আব্দুর রহিমের প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার সত্যতা প্রমাণিত হয়। গত ২৮ জুন অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৩০ জুন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরোয়ার মুর্শেদকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটিও করে প্রশাসন। কমিটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান। গত বছর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দিতে এক প্রার্থীর সঙ্গে ২০ লাখ টাকার চুক্তি করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল ও ইংরেজি বিভাগের ড. শাহাদত হোসেন আজাদ। তবে ওই প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়নি বোর্ড। প্রার্থী ও প্রার্থীর স্বামীর সঙ্গে দুই শিক্ষকের কথোপকথনের একাধিক অডিও ফাঁস হয়। ওই সময় তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করে প্রশাসন। পরে তদন্ত কমিটির সুপারিশ বিবেচনা করে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৪তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া হয়। সিন্ডিকেটের ৪৩ নম্বর প্রস্তাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাকীকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে পদাবনত করে সহকারী অধ্যাপক করা হয়। একই সিদ্ধান্তে শাহাদতকে অধ্যাপক পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদাবনত করা হয়। এখন এই শিক্ষকদের শাস্তি মওকুফ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে তাঁদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও শাপলা ফোরাম (প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন) শাস্তি মওকুফের দাবি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪৬তম সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি আইনগত বিচার-বিশ্লেষণের জন্য এক সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। কমিটিতে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল ছিলেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ। গত ২ অক্টোবর ২৪৭তম সিন্ডিকেটের ৪৭তম প্রস্তাবে উত্থাপিত হয় বিষয়টি। সিন্ডিকেটে ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত চার শিক্ষকের শাস্তি মওকুফ করে দেয় প্রশাসন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাকী ও শাহাদত আগের পদে পদায়ন করবেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রুহুল ও রহিমের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তাঁদের ব্যাপারে ৩০ জুন যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে তার কার্যক্রম চলমান থাকবে। গত ২১ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এই আদেশের কপি অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পরও শাস্তি মাফ করে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. আব্দুল মুইদ বলেন, ‘প্রশাসন চাইলে যে কাউকে ক্ষমা করে দিতে পারে। এই ক্ষমতা ভিসির (উপাচার্য) আছে। তবে এই সিদ্ধান্ত তাদের জিরো টলারেন্স নীতির বিপরীত। এটি নিয়োগ বাণিজ্য করে ছাড় পেয়ে যাওয়ার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘শিক্ষক সমিতি ও শাপলা ফোরাম তাঁদের ব্যাপারে সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া তাঁরাও (বিকুল ও আজাদ) প্রশাসনের কাছে শাস্তির বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন দাবি করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত এক সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং সিন্ডিকেটের পর্যালোচনা শেষে তাঁদের শাস্তি মাফ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে দৈনিক সময়ের দিগন্তের সাথে থাকুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × one =