হাজার টাকার কবুতর চিকিৎসা ব্যয় ৫’শ টাকা

অথর
মেজবা উদ্দিন পলাশ:   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৩১ জুলাই ২০২১, ৩:১০ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 107 বার
হাজার টাকার কবুতর চিকিৎসা ব্যয় ৫’শ টাকা

শখের কবুতর।আদরে পেলে পুষে বড় করছেন ফিরোজা খাতুন। কবুতরটি ট্রেনের ধাক্কায় পা ভেঙে যাওয়ায় পাগল প্রায় অবস্থা ফিরোজার। তড়িঘড়ি করে নিয়ে গেলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে। সরকারি চিকিৎসক করে দিলেন ব্যান্ডেজ। সেবা বাবদ ফি চাইলেন ৫’শ টাকা। কবুতরের পায়ের ব্যান্ডেজের এমন ব্যয় শুনে মালিকের আক্কেলগুড়ুম অবস্থা।

অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের মানুষ হওয়ায় টাকা না থাকায় চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অফিস সহায়ক রফিকুল ইসলাম। পরে অবশ্য ঘটনাটি জানাজানি হলে দ্রুত কবুতরটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তিনি। এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সেখানেও অনেকেই দিচ্ছেন ভিন্ন ভিন্নমত। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে।

ভেড়ামারা পৌরসভার দক্ষিণ রেল গেট এলাকার ভুক্তভোগী ফিরোজা খাতুন বলেন,কবুতরটি আমার ছেলে আশরাফের। সে শখেই কবুতর পুষে। আমাদের বাড়ি রেললাইনের ঢালে হওয়ায় ট্রেনের সাথে ধাক্কা লেগে কবুতরটির এক পা ভেঙে যায়। পরে আমি ও আমার ছেলের বউ কবুতরটি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে ডাক্তার দেখাতে যায়। সেখানকার ডাক্তার কবুতরটির ভাঙা পা টি ব্যান্ডেজ করার দায়িত্ব দেন ওই অফিসের রফিকুল ইসলামকে। পরে রফিকুল সেবা বাবদ ফি চান ৫’শ টাকা। টাকা না দেওয়ায় চিকিৎসা না দিয়েই আড়াই ঘন্টা বসিয়ে রাখেন। টাকা ছাড়া কবুতরটির চিকিৎসা দেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। অনেক কাকুতিমিনতি করেও চিকিৎসা দেননি তিনি। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে দ্রুত কবুতরটির চিকিৎসা ব্যবস্থা করেন রফিকুল। সরকারি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের কর্মচারীর এমন আচরণে হতবাক হয়েছি। তাই এমন কর্মচারীর কঠোর বিচারের দাবি করেন তিনি।

ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অফিস সহায়ক অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বলেন,আমি তাদের সাথে ইয়ার্কি ঠাট্টা করে টাকা চেয়েছি। কিছু সময় তারা বসেছিলেন। তবে এটাকে অনেকেই সুযোগ পেয়ে তিলকে তাল বানাচ্ছেন।

ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুর হক বলেন,বিয়ষটি আমার কানে এসেছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন,আমি শুনেছি এটি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + thirteen =