ওসির বি'রু'দ্ধে ম'দ খে'য়ে গা'লি'গা'লা'জ ও অ'শ্লী'ল অ'ঙ্গভ'ঙ্গি দেখানোর অ'ভি'যো'গ
বাগেরহাটের মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘মদ খেয়ে’ বিভিন্ন এলাকায় গালিগালাজ ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতের ওই ঘটনায় আলোচনা চলছে মোংলা শহর জুড়ে।
মোংলা শহরের রিজেক্সন গলির জামালের চায়ের দোকানে থাকা সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, ওসি দোকানির দিকে চায়ের কাপ ছুড়ে মারার দৃশ্য। কালো রঙের টি শার্ট এবং থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পরিহিত ওসিকে তখন নিভৃতের চেষ্টা করতে দেখা যায় সঙ্গে থাকা পোশাক পরিহিত দুজন পুলিশ সদস্যকে।
ঘটনার সময় ওই দোকান সামনের রাস্তায় থাকা একটি সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, ওসি এবং ৩ পুলিশ সদস্য বেরিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় থাকা কয়েকজনের উদ্দেশে কিছু একটা বলছেন ওসি। এক পর্যায়ে তাদের দিকে ফিরে দুই হাত মাজায় দিয়ে দাঁড়ান। পরে গেঞ্জি তুলে প্যান্ট নামানোর ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা তখন তাকে পেছন থেকে টেনে নিয়ে আসেন।
মোংলা পৌর যুবদলের সভাপতি প্রার্থী মো. মতিউর রহমান রতন বলেন, ‘বিশ্বকাপ খেলা চলে, মোড়ে মোড়ে বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য অনেকে রাতে বাইরে ছিল। আমরা বাজারে একটা চায়ের দোকানে ছিলাম। এমন সময় পৌর তাঁতি দলের সদস্য সচিব আজিজুর রহমান সোহাগ ফোন করেন। তার বাচ্চার দুধ শেষ, কোনো দোকান খোলা আছে নাকি দেখতে বলেন। তাকে নিয়ে দুধ কিনে নিয়ে আমরা এক কাপ চা খেতে দোকানে যাই। রাত তখন ২টা বা সোয়া দুইটা বাজে। এ সময় ওসি সেখানে এসে দোকান খোলা কেন জানতে চায়। দোকানি বলে আমার দোকান তো সারা রাত খোলা থাকে। তিনি তাকে দোকান বন্ধ করতে বলে একটি চায়ের কাপ তার দিকে ছুড়ে মারেন।’
পরে আমাদের কাছেও বাইরে থাকার কারণ জানতে চায়। তাকে সব বললেও সে বার বার উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছিল। গালিগালাজ শুরু করেন। আমরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে সে আরও উত্তেজিত হয়ে এক পর্যায়ে আমাকে ধাক্কা দেন। দল করি কিনা জানতে চায়, পরিচয় দিলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আমার মনে হয়, সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন না।’
পৌর তাঁতি দলের সদস্য সচিব আজিজুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আমার আড়াই বছরের বাচ্চাটা অসুস্থ। ওর দুধ কেনার জন্য রাত ১টার দিকে আমি রতন ভাইকে ফোন দিয়েছি, দোকান কি খোলা আছে? তাকে নিয়ে দুধ কিনে দুজনে চা খাইতে বসছি। আমি মোটরসাইকেলে বসা ছিলাম। এমন সময় ওসি সাহেব আসছে, তাকে সালাম দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে বলেন যে, এখানে কি চান? চা খাইতে আসলাম বললে বলেন, কি করেন? বললাম ব্যবসা করি আর রাজনীতি করি। দলীয় পরিচয় জানতে চাইলে তাও বলি। তখন ওসি গালি দেওয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে ওসি প্যান্টের চেন খুলে বাজে অঙ্গভঙ্গি শুরু করে এবং বিশ্রী কথা বার্তা বলতে থাকে।’
‘সে এতটা মদ্যপ অবস্থায় ছিল কি বলবো, কথা বলছিল মুখ থেকে মদের গন্ধ আসছিল। গালিগালাজ করছে অকথ্য ভাষায়, মা-বোন তুলে। সে এবনরমাল ছিল। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। আমরা মীমাংসা বয়কট করে আসছি।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ কয়েকজন বলেন, ‘রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ওই দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। সেখানে আগামীকাল থেকে রাতে দোকান খুলতে নিষেধ করেন এবং বিশ্রী গালি দেয়।’
মতিউর রহমান রতন বলেন, ‘আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি। কোনো অভিযোগ থাকলে উনি আমাদের ধরে থানায় নিয়ে যেত পারতো। প্রকাশে গালিগালাজ করেছে, এমন ব্যবহার ফ্যাসিস্ট আমলেও আমরা দেখিনি। আমরা তো দেখি, পুলিশ আসামির ডোপ টেস্ট করে। এখন আমি একজন পাবলিক হয়ে বলতে চাচ্ছি যে, ওসি সাহেবের ডোপ টেস্ট করানো উচিত।’
এর আগে রাত পৌনে ১২টার দিকে বেড়িবাঁধ এলাকার একটি চায়ের দোকানে গিয়েও একইভাবে চিল্লপাল্পার অভিযোগ ওঠে ওসির বিরুদ্ধে। সেখানে বসে থাকা শিক্ষার্থীসহ ৭ বন্ধুকে মদ্যপ অবস্থায় হয়রানির অভিযোগ আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘গভীর রাতে দোকানপাট খোলা থাকে, এলাকায় চুরি টুরি বেড়ে গেছে। এ জন্য এলাকায় বাজে আড্ডা বন্ধ করার জন্য দোকানপাটে গিছিলাম। আসলে স্বার্থান্বেষী মানুষের গায়ে আঘাত লাগলে যা করে আরকি। এটা সঠিক না, আসলে যেটা বলতেছে। আমি সরকারি চাকরি করি, যথেষ্ট অভিজ্ঞতাও হয়েছে, আমি এগুলো কেন করতে যাবো?’
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, ‘বিক্ষিপ্তভাবে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। আসলে পক্ষে-বিপক্ষে দু ধরনের কথা আসছে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।’