চার বছর ধরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার দাবি, পাকুড়িয়া ও জামালপুরে উন্নয়ন ও জনসেবার প্রত্যাশা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১ নম্বর প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তরুণ সমাজসেবক মো. আসাদুল হক। পাকুড়িয়া ও জামালপুর গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকেরা জানিয়েছেন।মো. আসাদুল হক সমাজসেবামূলক সংগঠন ‘সেবাই ধর্ম ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, গত চার বছর ধরে সংগঠনটির মাধ্যমে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে এক হাজারেরও বেশি মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে।সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, রমজানে ইফতার বিতরণ, ঈদে খাদ্যসামগ্রী ও উপহার প্রদান, অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসায় সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ফুটবল বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সম্প্রতি পাকুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তার পাশে ৮০ ফুট পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেন আসাদুল হক। স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি কমানো এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর সমর্থকেরা জানিয়েছেন।এলাকার পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে পাকুড়িয়া ও জামালপুর গ্রামে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও শুরু করেছেন তিনি। পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা সৃষ্টি, খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তার মতো কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।আসাদুল হকের সমর্থকদের মতে, এলাকার উন্নয়নে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা মনে করেন, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।মো. আসাদুল হক বলেন, “আমি এমন একটি ওয়ার্ড গড়ে তোলার প্রত্যাশা করি, যেখানে মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন, অন্যায় ও হয়রানির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষ প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতা পাবেন। আমার কাছে উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণ নয়; নিরাপদ সমাজ, মানবিক পরিবেশ, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের সুযোগ নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ।”তিনি আরও মনে করেন, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সমর্থকেরা পাকুড়িয়া ও জামালপুরের উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন। তাঁদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির সাফল্য শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দায়িত্ব পালনের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখা, মানুষের আস্থা অর্জন এবং সবার জন্য সমানভাবে কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত সাফল্য নিহিত।আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আসাদুল হককে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সমাজসেবা, এলাকার উন্নয়ন এবং নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা। তবে নির্বাচনে তাঁর প্রকৃত জনসমর্থন কতটা, তা নির্ধারিত হবে ভোটারদের মতামত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সততা, দায়িত্ববোধ ও ধারাবাহিক জনসেবা। পাকুড়িয়া ও জামালপুরের মানুষের পাশে থেকে একটি সুন্দর, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত ওয়ার্ড গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তরুণ সমাজসেবক মো. আসাদুল হক।