
নদী খননের মাটিতে চাপা পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর
নদী খননের মাটিতে চাপা পড়েছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। এতে বিপাকে পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকপ্লের বাসিন্দারা।
নদী খননের মাটি পাড়ে ফেলার কারনে কোথাও কোথাও তৈরী হয়েছে মাটির বিশাল স্তুপ। যা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নামছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের উপর।
অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে নদীগর্ভে ধসে পড়ার হুমকিতে পড়েছে প্রকল্পের বেশ কিছু ঘর। নষ্ট হয়েছে বেশকিছু টিউবওয়েল।
বন্ধ হয়েছে চলাচলে পথ। উপজেলার চুকনগর, কাঁঠালতলা এবং খর্নিয়া এলাকার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ভদ্রা নদী খননের ফলে এই দুরাবস্থা তৈরী হয়েছে।
যশোর ও খুলনার ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে আপার ভদ্রাসহ ৫টি নদীর (হরিহর, হরি-তেলিগাতী, আপারভদ্রা, টেকা ও শ্রী) ৮১.৫ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের উদ্যোগ নেয় সরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে নদী খননের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় ২০২৫ সালে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড নদী খনন শুরু করে।
ভুক্তভোগীরা জানান, নদী থেকে তোলা মাটির চাপে ঘরের দেয়াল ও জানালা ভেঙে ভেতরে কাদামাটি ঢুকছে। নদী খননের মাটি ঘরের গায়ে স্তূপ করে রাখায় ঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাটির ভারে ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে। পরিাবার নিয়ে প্রকল্পের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
তারা জানান, এই নদী খনন কর্মসূচিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষদের খাবার পানির টিউবওয়েল ও টয়লেট নষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে যশোরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, মাটি গড়িয়ে পড়ার কারণে মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে এবং কিছু ঘরের আশপাশে মাটি জমেছে। তবে মাটিচাপায় কোনো ঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বা গুঁড়িয়ে যায়নি, নদী খননের মাটি নিলাম হয়েছে এগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে দ্রুতই মাটি সরিয়ে নেওয়া হবে।
খুলনার কাঁঠালতলা আশ্রয়ন প্রকল্পে মাটি ফেলার কারণে বসতঘরে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, মাটির অতিরিক্ত চাপের কারণে ঘরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিজেরাই ঘরের ভেতর থেকে মাটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রকল্পের বাসিন্দা ময়না সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বলেন, ঘরের পাশে ও আশপাশে ফেলা মাটি নিজেরাই সরিয়েছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাটি ওই ভেকু করে সরিয়ে নিয়েছে। নিজেরাই পরে ঘরের পাশের মাটি ফেলেছি।
তিনি আরও বলেন, মাটির চাপের কারণে ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘরের আগার দিকে, পিলারের পাশে ফেটে গেছে। ভেতরে গেলে দেখা যাবে। বারান্দা থেকে বোঝা যাবে না, ঘরের ভিতরে ফাটল আছে।
রান্নাঘরেও ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে ময়না জানান, দরজার অংশ ভেঙে গেছে এবং ঘরের কিছু কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ঘরের জিনিসপত্রও সরিয়ে রাখতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০২১ সালে তিনটি ধাপে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর, খর্নিয়া এবং কাঠালতলা এলাকায় শতাধিক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করে সরকার। চুকনগর, খর্নিয়া এবং কাঁঠালতলা এলাকায় খাস জমি চিহ্নিত করে দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি-পাকা ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়। জমিসহ ঘরের দলিল হস্তান্তরের দিন এই মানুষগুলোর চোখে ছিল আনন্দের জল। একসময় যারা ছিলেন ঠিকানাহীন তারা পেয়েছিলেন একটি স্থায়ী ঠিকানা। তারা চান তাদের ঠিকানায় নিরাপদে বসবাস করতে।
মন্তব্য করুন