
কালীগঞ্জে শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আবু তাহেরের ফাঁসির আদেশ
সালাম হোসেন, ঝিনাইদহ।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বহুল আলোচিত শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং লাশ গুমের অপরাধে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের রফিউদ্দিনের ছেলে। তিনি নিহত শিশু তাবাচ্ছুমের বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের ৫ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ ২৭ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া থেকে আবু তাহেরকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ গত ২৬ মে তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হয়। মাত্র ৫ কার্যদিবসে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঘটনার চার মাসের মধ্যেই আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া লাশ গুমের অপরাধে তাকে আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত দ্রুত সময়ে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আদালত আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। দ্রুত রায় কার্যকর হলে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। এদিকে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার পর নিহত শিশু তাবাচ্ছুমের পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন