
সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৫ মাসে ৫৫ খু”ন, বাড়ছে উ’দ্বে’গ
গত ৫ মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ৫৫ জন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে ১১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ধরনের ৩৪৭টি সহিংসতার ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন আহত হয়েছেন ১৮ জন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হলেও অপরাধীদের ধরতে দলীয় পরিচয় দেখা হচ্ছে না, দাবি পুলিশের। এদিকে, অপরাধের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাওয়ার আগে সহিংসতায় জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।
গত ১৩ জুন শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজানে সিএনজি অটোরিকশায় আসে ৫ থেকে ৭ জন । প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে।
এর মাত্র একদিন আগে, ১২ জুন খুলনায় গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে। আর ৯ জুন রাতে রাজধানীর মৌচাকে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার।
গত একমাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্তত পাঁচজন নেতা খুন হয়েছেন। আর জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৫৫ জন।
পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণ। এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত কোরে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিমের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, অব্যশই নজরদারিতে আছে। যারা শীর্ষ সন্ত্রাসী তারা কেউ দেশের বাইরে, কেউ জেলখানায় আছে। যারা জামিনে বের হয়েছে, এদের কেউ অপরাধে জড়িত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ খুনের ঘটনার নেপথ্যে আধিপত্য নিয়ে সংঘাত, লেনদেনের স্বার্থ এবং রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। একের পর এক হত্যাকাণ্ড চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতাও।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যারা অভিযুক্ত,তারা দল বা দলের বাইরে হলে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দলের ভেতর থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে, আইনেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুধু বিশেষ অভিযান বা ধর-পাকড়ে নিয়ন্ত্রণে আসবে না পরিস্থিতি। রাজনৈতিক দলগুলোকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দমন কোরে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।
মন্তব্য করুন