
মেহেরপুরে যুবকের ধারালো অস্ত্রের কোপে তরুণীর হাত বিচ্ছিন্ন, অভিযুক্ত সায়ন আটক
মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় বাড়িতে ঢুকে এক তরুণীর ডান হাত কুপিয়ে কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে সায়ন আলী(৩০) নামের এক যুবকে গ্রেফতার করেছে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ।ঘটনার পর বুধবার সকালে মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক সায়ন আলীকে গ্রেফতার করা হয়।গেল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন, মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন(৫০), তাঁর স্ত্রী রেবেকা খাতুন(৪২) এবং তাঁদের মেয়ে স্মৃতি আক্তার(২৩)।আটক সায়ন আলী(৩০) ওই এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে।হামলায় স্মৃতি আক্তারের ডান হাত কবজির ওপর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় গুরুতর আহত হয় স্মৃতি আক্তারের বাবা ও মা। পরে গুরুতর আহত তিনজনকে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে সায়ন আলী সেলিম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্মৃতি আক্তারের ওপর হামলা চালান।একপর্যায়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাত কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।স্মৃতির চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর বাবা-মা এগিয়ে এলে তাঁদেরকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।এরপরই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান সায়ন আলী।পরে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে।মেহেরপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীর জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা জানতে পেরেছি স্মৃতি খাতুনের এক হাত ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।এ ঘটনায় তার বাবা-মা ও গুরুতর আহত রয়েছে।তবে কিভাবে সে ঘরে প্রবেশ করল তা জানতে পারেনি।যেহেতু এই ঘটনায় সায়ন আলীকে পুলিশ আটক করেছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত রহস্য উঠে আসবে। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত সায়ন পলাতক ছিল।আজ বুধবার সকালে মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সায়ন ও স্মৃতি আক্তার এর মধ্য দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।কিছুদিন আগে তাদের বিয়েও হয়েছিল বলে জানা যায়।তাদের দু’জনের দাম্পত্য জীবনের বিরোধের কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে স্মৃতি খাতুনে পরিবারের সাথে কথা বলা এখনো সম্ভব হয়নি।কথা হলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।আর হামলার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।সায়ন আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
মন্তব্য করুন