
ঝিনাইদহে ফুলবাড়ী দিবসে ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি
সালাম হোসেন, ঝিনাইদহ।
ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, ঝিনাইদহ জেলা শাখা। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় আয়োজিত কর্মসূচি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা বন্ধ, ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।উন্মুক্ত না, বিদেশি না, রপ্তানি না’ স্লোগানে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ফুলবাড়ী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আবু তোয়াব অপু, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সুজন বিপ্লব, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন লস্কর, জেলা সদস্য আরিফুল ইসলাম মিটুল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ঝিনাইদহ জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম আসাদ, আসাদুর রহমান, শারমিন সুলতানা এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল এনাম পল্লবসহ বিভিন্ন বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বসতভিটা, জল, জমি, মানুষ ও জীবন রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন প্রতিরোধের আন্দোলনের ২০ বছর পার হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা সরকারগুলো প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। উন্নয়নের নামে কতিপয় মানুষের মুনাফার স্বার্থে দেশের মানুষকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। কাজের সংকট, খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা সংকটে মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। এর মধ্যেও সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। তারা বলেন, ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সরকারি বাহিনীর গুলিতে আমিন, সালেকিন ও তরিকুল শহীদ হন এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ফুলবাড়ীর মানুষ ও প্রাণ-প্রকৃতি, কৃষিজমি, সুপেয় পানি, পরিবেশ, বসতভিটা ও অবকাঠামো রক্ষার আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়।নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, দীর্ঘ ২০ বছরেও আন্দোলনের পর সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি’ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। একই সঙ্গে ফুলবাড়ী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। তাঁরা অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। সমাবেশ থেকে রামপালসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রকল্প ও চুক্তি বাতিল, বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে সম্পদ ব্যবহারের নীতি পরিহার এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ জনগণের স্বার্থে ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বর্তমান সরকার ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার কথা বলেছে। তাই সরকারের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা, শহীদ আমিন, সালেকিন ও তরিকুলের জীবন এবং ফুলবাড়ীর মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি’ দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ সময় বক্তারা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লা খনি উত্তোলন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের সর্বত্র ২৬ আগস্ট ‘ফুলবাড়ী দিবস’ পালনের আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনে সমর্থনকারী বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন