
প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভাগবাটোয়ারায় কুষ্টিয়ায় বালি অপসরনের নামে চলছে কৃষি জমির মাটি লুটপাট, অসহায় এলাকাবাসী
ইরফান রানা: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার এলোঙ্গী এলাকায় গড়াই নদীর ড্রেজিংকৃত বালি ইজারার নামে চলছে অবৈধ কর্মকান্ড। বালির সাথে কাটা হচ্ছে ফসলী জমির মাটিও। এতে হুমকীর মুখে পড়েছে কৃষি জমি ও রাস্তাঘাট, বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ইজারার নামে এখানে রাত-দিন সমানে চলছে বালির সাথে মাটি লুটপাটের মহোৎসব । এতে হুমকীর মুখে পড়েছে তাদের কৃষি জমি রাস্তাঘাট ও বসতভিটা।
স্থানীয়রা বলছেন, লালন বাজার থেকে শুরু করে বালিমহল পুরো এলাকায় অসংখ্য ড্রামট্রাক চলাচল করছে এতে তাদের ঘরবাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। রাস্তা ঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। ঠিকমত বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা। এদের কারনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের যোগসাজস্যে এমন অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যা নিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে উত্তেজনা, ঘাট দখল ও প্রভাব বিস্তারে ঘটেছে গোলাগুলি ও প্রকাশ্য আগ্নেয়স্ত্রের মোহড়াও।
জামায়াত, বিএনপি ও প্রশাসনের মধ্যে এ বালি মহলের টাকা ভাগবাটোয়ারার একটি তালিকাও এসেছে দৈনিক সময়ের দিগন্ত প্রত্রিকার প্রতিবেদকের হাতে হাতে। যেখানে উল্লেখ রয়েছে এই বালি মহালের টাকা কিভাবে কাদের মধ্যে কত পার্সেন্ট করে বন্টন হয়। যেখানে দেখা যায় বিএনপি পায় ৪০ ভাগ, জামায়াত পায় ৪০ ভাগ ও ২০ ভাগ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিএনপির এই টাকা পায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনছার প্রামানিক, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মো: সামছুদ্দিন। এছাড়াও কুমারখালী থানা ও ইউএনও অফিসের নামেও প্রতিদিন একটি বরাদ্ধ যায় এ ঘাট থেকে। যার কারনে এলাকার ক্ষতি হলেও এদিকে কোন নজর দেয়না প্রশাসন এমনই অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এবিষয়ে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মো: সামছুদ্দিন জানান, প্রথম দিকে তিনি ৪০ পার্সেন্ট করে ভাগ পেলেও এখন আর তিনি এর সাথে নেয়। গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে আর বালিঘাটে জাননা বলে দাবী তার।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনছার প্রামানিক বলেন, এর সাথে তিনি জড়িত নেই, তার দাবী, তার নাম ভাঙিয়ে এসব কর্মকান্ড করছে সন্ত্রাসী বাহিনী। আর বিষয়টি একেবারেই অস্বীকার করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। তাদের দাবী এবিষয়ে তারা কিছুই জানেনা। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তারা। তবে বালি অপসারন নিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা বা অবৈধ কর্মকান্ড চললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ ঘাট বাতিলের কথা জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান।
চলতি বছরের মে মাসে কুমারখালীর এলোঙ্গী এলাকায় ৭৯ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকায় গড়াই নদী থেকে ড্রেজিংকৃত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২ লক্ষ ২ হাজার ৫০০ ঘনমিটার বালি অপসারনের কাজ পায় সৈকত এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তারপর থেকেই ভাগবাটোয়ারা ও ঘাট দখল নিয়ে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। এনিয়ে একের পর এক ঘটেই চলেছে গোলাগুলি ও হামলা-মামলার ঘটনা। তাই এলাকায় শান্তি ফেরাতে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চায় এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন