
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে চিকিৎসা, ঝুঁকিতে রোগী ও ডাক্তার
মেহেরপুর প্রতিনিধি:
মানুষ অসুস্থ হলে তার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন চিকিৎসা।আর অসুস্থ হলেই ছুটে যায় হাসপাতালে।শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলে ভর্তি হতে হয় সেখানে।কিন্তু সেই হাসপাতালই যদি ঝুঁকিতে থাকে তাহলে রোগীর নিরাপত্তা কোথায়।আর এমনই ঝুঁকি নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে।প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার অন্যতম ভরসাস্থল এ হাসপাতালটি। ১৯৬৩ সালে ৩১ শয্যা হাসপাতাল হিসেবে এ ভবনটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।এখন সেই ভবনটিই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে ভবনটির দেয়াল ফেটে গেছে, বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়ছে। ২০১৩ সালে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও আজও সেখানে রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।প্রায়ই ছাদের কংক্রিট ও পলেস্তারা খসে পড়ে রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এখানে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতাল ভবনটি অনেক পুরোনো। নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি। তা না হলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।তাছাড়া ডাক্তাররা চরম ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন রোগীদের।
স্থানীয়রা জানান, হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এখানে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে একটু সুস্থতার জন্য।তবে যে পুরাতন বিল্ডিংটিতে চিকিৎসা দিচ্ছেন সেই বিল্ডিং তো নিজেই অসুস্থ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল হাকিম বলেন, এই পরিত্যক্ত ভবনটিতে আমরা চিকিৎসা নিচ্ছি।তবে খুব ভয় লাগে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।ভিতরে বিভিন্ন অংশ থেকে অনেক সময় খসে পড়ে পলেস্তারো।বিল্ডিং এর বিভিন্ন জায়গায় ফাটল রয়েছে।তাই কোন দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অতি দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।
চিকিৎসা নিতে আসা মোঃ আব্দুল মন্ডল বলেন, হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।তারপরেও ভবনটির এমন করুণ দশা কি কখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ে না।যদি কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে এই দায়ভার কে নেবে।আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসা নিচ্ছি।হাসপাতালের যে নতুন বিল্ডিং রয়েছে সেখানেও জায়গা হয় না।আর ডাক্তাররাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
পলাশ আহাম্মেদ বলেন, দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৩ বছর আগে এই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।অথচ কি কারনে এই ভবনটিতেই আবার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে তা বুঝে আসে না।সামান্য সংস্কার করে আবার সেবা কার্যক্রম করা হয়।অথচ যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই পুরাতন বিল্ডিং এর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে সব সময় ভয়ে থাকে,কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটবে।এই ভবনের ভেতরে মাঝে মাঝে পলেস্তারো খসে পড়ে।এতে সব সময় রোগীরা আতঙ্কে থাকে ।যারা ডাক্তার ও নার্স রয়েছে তারাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে।
নার্সিং সুপারভাইজার আমেনা খাতুন বলেন, এই পরিত্যক্ত ভবনটিতে চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমরাও ঝুঁকিতে থাকি।রোগীরাও ভয়ে থাকে কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে।চরম ঝুঁকি নিয়েই রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডাক্তাররা।বর্ষা মৌসুমে আরো বেশি ভয় হয়।এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অতি দ্রুত সুদৃষ্টি কামনা করছি।
গাংনী পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী শামীম রেজা বলেন, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২০১৩ সালে এলজিইডি,পৌরসভা ও ডিপিএইচই মিলে একটি টিম গঠন করা হয়েছিল।সেই পরিদর্শন টিম সেই সময় পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সেটা চালু রেখেছে।অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো: একরামুল হক বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। ভবনের ঝুঁকির বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।তবে আজও কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।আর রোগীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।তাছাড়া ডাক্তাররাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন রোগীদের।কোন দূর্ঘটনা ঘটলে এর দায় এড়াতে পারবেন না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।এই পুরান ভবনটিতে ৩১ টি বেড রয়েছে।
মেহেরপুর-২(গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা বলেন,গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।আমি বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।
মন্তব্য করুন