
ইবি স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তি প্রদান, ৩৫৯ শিক্ষার্থী পুরস্কৃত
তিতাস আহম্মেদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের সামাজিক সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে মেধা বৃত্তি ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃত্তিপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।সংগঠনের সূত্রে জানা যায়, লার্ন টু লিড স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত উক্ত বৃত্তি পরীক্ষায় প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষা শেষে মূল্যায়নের মাধ্যমে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে মোট ৩৫৯ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সনদ প্রদান করা হয়।স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশিদ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রহিম উল্যাহ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, আল-কুরআন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ফারুক, আইআইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপক রাশেদুল ইসলাম রাফি, পরিচালক আবু তামিম এবং আল-ঈমান দাওয়াহ ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আল-মামুন। অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, শিশু-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং তাদের নৈতিক ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে এই সামাজিক সংগঠনটির উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাঁরা বলেন, এই বৃত্তি কেবল একটি পুরস্কার নয়, এটি মেধার স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। মেধার পাশাপাশি ভালো মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান অতিথিরা।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ বলেন, অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের ওপর নিজেদের পছন্দ বা ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে তাদের মনের মতো ভালো মানুষ হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। আর ছোটদের উচিত অভিভাবকদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের কথা মেনে চলা। সফলতার অন্যতম শর্ত হলো সঠিক পথে থাকা এবং পিতা-মাতার দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা।সভাপতির বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী বলেন, জ্ঞান অর্জনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং জ্ঞানকেই প্রধান সম্পদ মনে করতে হবে। বড় কিছু অর্জনের জন্য বড় স্বপ্ন দেখার বিকল্প নেই। সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার থেকে দূরে থেকে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।অনুষ্ঠান শেষে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৩৫৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তি ও ক্রেস্ট-সনদ তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
মন্তব্য করুন